Skip to main content

বসন্তোৎসব এবং বাহুমূলে বাবড়ি




চলল সারাদিনের রঙের উৎসব। আগামীকালও কোথাও কোথাও রঙ খেলা চলবে। সে চলুক। বসন্ত এসে গেচে বলে কতা! ফুল ফুটুক চাই হুল ফুটুক, গুরু বসন্ত এয়ে গেচে! বসন্তের প্রকৃতি যখন ফুলে ফুলে রঙ মিশিয়ে মেতে থাকেন রঙের আনন্দে, তখন তাঁর বুদ্ধিমান সন্তানও যে রঙের খেলায় মাতবে সে তো স্বাভাবিক।

তিনি খেলবেন। তার জন্যে তিনদিন আগে থেকে আবহ তৈরি হবে। মোবাইলে মোবাইলে মেসেজ চালাচালি হবে।  লাগলো যে দোল, লাগলো যে দোল করে নানান গলায় কবিগুরুর চর্চা হবে! হোলিকার কুশপুত্তলিকায় ধানি পটকা বাঁধা হবে। কেত্তনের দলে হিন্দিগানের স্বরলিপি সাধা হবে। দোকানে দোকানে  নয়া বাবড়ি আসবে, কঙ্কাল ফেসের, ছুঁচো ফেসের নয়া মুখোশ আসবে। সব্বোপরি শান্তিনিকেতনের টিকিট মহার্ঘ্য হবে। জাতীয় পোশাক বার্মুডা যার, তার জন্যেও পাঞ্জাবী তৈরি হবে। বাসন্তি বেসে পলাশের ছোপ ছোপ পাঞ্জাবী, বগলে থুড়ি কাঁধে উড়ুক্কু ডিজাইন। কোন ক্যামেরায় কেমনি পোজে সেলফি উঠবে, কোন গালে কতটা পুরুত্বে কী রঙ লাগলে গুরুত্ব বাড়বে, সে নিয়ে গোলটেবিল বসে যাবে। বাড়িতে যেমন, তেমন খবরের চ্যানেলে চ্যানেলে। রূপোলি দিদিরা এসে টিপস দেবেন রঙের দিনের ইউনিক পোশাকের। সঞ্চালক হেঁচকি তুলে তুলে হেঁ হেঁ করবেন। তার পর ওম গুরবে নমহ বলিয়া পানসি চলবে গুরুধামের বসন্তোৎসব!

যাহারা যাইতে পারিলেন না, কুছ পরোয়া লাই, তাদের লেগে পাড়ায় পাড়ায় ইদানিং ভন্টুদারা আয়োজন করে ফেলেছেন লোকাল বসন্তোৎসব! সক্কাল সক্কাল হাতে ইস্টিলের থালায় দো চুটকি আবির। ঠা ঠা রাস্তায় হলদে শাড়ি নাচছে, ভন্টুদা লাইন সামলাচ্ছে, অটো আটকাচ্ছে- বটতলে দোল লেগেছে বস! খানিক না হয় বসিয়াই যান।

এমন নেত্যপরবের শেষেই আছে ডান্ডা হস্তে সেলফি তোলনান্তে বেশ করিয়া ফেসবুকে পোস্টন! লাইকস! লাইকস! লাইকস!

এরই মাঝে দুষ্টু চোখে ঢেউ উঠবে। চুনরওয়ালির প্রতি রঙ বর্ষাবে। সে 'আমি তখন নবম শ্রেণি'ই হোক চাই 'বহুদিনের শাড়ি'। রঙ চুঁইয়ে যাবে মনে। টসটস করে ঝরে পড়বে কাচের গেলাসে। ঢুকু ঢুকু শেষে ঢুলু ঢুলু চোখ শেষ পাতে ঠিক খুঁজে নেবে রোয়াকের কুকুর। তার ন্যাজ, মুখ কোনোটিই বাদ না রেখে কম্পলিট রেঙে দেবে। তারপর রঙিন জামায় হাতে হাতে ধরি ধরি গিট্টি বেঁধে গগনে গগনে প্রদর্শনীর লেগে মেলে দেবে। এই না হলে বস খেলা!

তা ছাড়া আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য 'কৃষ্ণ করলে লীলা, আমরা করলে বিলা' মার্কা জাতীয় গানা তো আছেই! অতএব হাওয়া উঠছে উঠুক, হাওয়াকল ঘুরছে ঘুরুক।

কে কৃষ্ণ, কীসের দোল- প্রশ্ন গুলো সহজ আর উত্তরও অজানা! কাজেই এ সব আনকমন প্রশ্ন বরং লুকিয়ে থাক। চাকা তো ঘুরছেই। বলা যায় না, কোনো দিন আবার কেউ এ সব জিজ্ঞেস করতেও পারে। সেই আলেক মানুষের জন্যে প্রশ্নগুলো বরং তোলাই থাক। এখন বরং গুরু রাত হয়েচে, হালকা করে হোলির মিউজিক দিয়ে ঘুমের তরলে ভাসা যাক।



শাশ্বত কর/ শময়িতা
দোল, ২০১৮

Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

পিতৃদিবসে ‘ফেরা’-র ডাক পরিচালক পৃথা চক্রবর্তীর

  শাশ্বত কর   ‘ ফি রব বললে ফেরা যায় নাকি?’- মহীনের ঘোড়াগুলির প্রায় প্রবাদ হয়ে যাওয়া গানের চরণের উত্তর খানিক হলেও মিলে যায় পৃথা চক্রবর্তীর নতুন ছবি ফেরায়। সাধারণ মানুষের সাধারণ গল্প। মার প্যাঁচ, প্যাঁচ পয়জার- গল্প থেকে স্ক্রিপ্ট, অভিনয় থেকে ক্যামেরা- কিচ্ছু নেই। আছে কেবল সাধারণ মানুষের সাধারণ কথাবার্তা। ‘অবশ্য কে রাখে খবর তার!’ তবে কি না শুনেছি বিদ্বানেরা বলেন, অতি সাধারণের মধ্যেই নাকি আবার অসাধারণের ইশারা লুকিয়ে থাকে। তা চেনা সবার কম্ম না, সেই অসাধারণের বীজটিকে বৃক্ষ করে তোলার কাজও সব সাধারণের না। যদি তাই হয় তবে বলতেই হবে এই ছবির কলাকুশলীরা সাধারণের খবরাখবর রাখেন, না হলে এমন মাটি ছোঁওয়া প্রাণবন্ত অভিনয় কেবল প্রতিভা থেকে উঠে আসে না। ছবির ক্রুরাও অবশ্যই খবর রাখেন সাধারণের, নইলে এমন স্ক্রিপ্ট, এমন লোকেশন, এমন গল্প বলা, এমন আলো আর এমন গান- এমন পরিচালনা হয়ে ওঠে না। ‘ফেরা’ আসলে আমার আপনার মনোজগতে একবারটি ফেরার টিকিট। বাবার কাঁধে আর একবার মাথা রাখবার অবসর। মায়ের গায়ে গা ঠেকিয়ে খালি হয়ে যাওয়ার সুযোগ। মা বাবা থাকলে তো বটেই, তাঁরা যদি এখন ইহলোকে নাও থাকেন তবুও মনের ঘরের কবাট খ...

যুদ্ধ যুদ্ধ যুদ্ধ !

  স ত্যিই যুদ্ধ। যুদ্ধ বলে যুদ্ধ! চোখের সামনে যুদ্ধ, নায়কে খলনায়কে যুদ্ধ, দেশে দেশে যুদ্ধ, গানে Gun-এ যুদ্ধ, কানে কানে যুদ্ধ, মনে মনে যুদ্ধ। ধিম ধুম ধাসুম গুদুম গাদুম - বোম পড়ছে, গ্রেনেড পড়ছে , বাড়ি উড়ছে, গাড়ি উল্টচ্ছে, গাড়ি গুঁতোচ্ছে , হেলিকপ্টার উড়ছে, জেট উড়ছে, জেড নিরাপত্তা বুড়ো আঙুল দেখছে, আঙুল চুষতে চুষতে চোর ঠেঙান ঠেঙাচ্ছে হিরো - সব কুছ আরামসে! আরি বাপরি বাপরি বাপ! ওয়ান ম্যান আর্মি - আরি বাপরি বাপরি বাপ!  পুরো বিনোদনের ক্যাপসুল! ক্যাপসুলে কি নেই? তিন ঘন্টার মধ্যে জগত দর্শন! ওরে বাপরে মার কাকে বলে? অবশ্য শুধু মার বললে ভুল হবে। প্রেমের জোয়ার আছে, প্রেমের জোয়ারে দোহার ভেসে যাওয়া আছে। স্পাই ভার্স বলে কথা- কাজেই সুন্দরী নায়িকার স্বল্প বসনে হাঁটাচলার আবেদন আছে, মনে ঢেউ তোলা নাচন আছে। আর সর্বোপরি- গ্রিক গড হৃত্বিক রোশনের নাচ আছে! আর কি চাই? দীপিকা?  পুরো ছবিটাতেই তো হৃতিক রোশন আর হৃতিক রোশন! অবশ্য এন. টি. আর. তাঁর কামাল দেখিয়েছেন। হৃতিকের পাশে নাচার সময় চোখে পড়ে এমন মানুষ বলিউডে এখনও খুব কমই আছেন। এন. টি. আর তাদের একজন। ছবিতে হৃতিকের সাথে প্রায় সমান...

আজ আমাদের নেড়াপোড়া

আজ আমাদের নেড়াপোড়া শাশ্বত কর    ইশকুল ছুটি হল কি না হল দুদ্দাড় করে দৌড়। দলের সব্বাই! দৌড়তেই হবে। নইলে অন্য দল যে নিয়ে নেবে। শেষমেশ হারতে হবে নাকি! নৈব নৈব চ! কাজেই ছুট। ছুটতে ছুটতেই হাতের কাছে যা পাওয়া যায়, মানে সুপুরির পাতা, তালের ডগা, নারকেলের ডাগা- কুড়িয়ে নিয়ে ছুট! ভাঙা ভাঙা পিচের রাস্তা। শুকনো পাতার ঘষায় তার গয়না আলগা। কুচি পাথর পাতার টানে নড়নড়িয়ে এগিয়ে চলে। ধুলো ওড়ে। উড়ুক গে। আগে তো পাড়ায় পৌঁছোই, তারপর ভৌমিকদের ভিতের গর্তে এগুলো ডাঁই করতে হবে। ওটাই এবারের গুদাম। গুদামে মাল জমা চলছে গত সপ্তাদুয়েক। মন ভরছে না। আজ শেষদিন। বাড়ি গিয়েই তাই বস্তা নিয়ে বেরোনো হবে কুচো পাতা একাট্ঠা করতে। তাই হল। দলে পাঁচজন। দুটো বস্তা। একটা ভরতে হবে বাঁশপাতায়। কাজেই যেতে হবে ক্যাটাইবুড়োর বেগুন খেত পেরিয়ে মিত্রবাড়ি। বাড়ি বলে বাড়ি! যেমন বড় কবি, তেমনি বড় তাঁর মামার বাড়ি! যেমন ছন্দের যাদুকর, তেমনি ছন্দ ভরা বাগান! বাগানের ভিতর দিয়ে আমাদের ইশকুল যাবার শর্টকাট। গাছ আর  গাছ! শাল সেগুন শিমুল অশোক। একপাশে বাঁশের ঝাড়। সারাক্ষণ সরসর সরসর হাওয়া।  সেখানে পৌঁছেই বাঁশপাতা কুড়োতে শুরু করে দিল বুড়ন আর ...